ময়মনসিংহে বেহেশত নিয়ে কটূক্তিকারী গ্রাফিটির লেখক কবি শামীম আশরাফ আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ : ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য এবং বেহেশত নিয়ে কটূক্তিপূর্ণ গ্রাফিটি লেখার অভিযোগে ময়মনসিংহের সংস্কৃতিকর্মী ও কবি শামীম আশরাফকে (৩৮) আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরের আমলাপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
জেলা ডিবির ওসি (দক্ষিণ) মহিদুল ইসলাম বলেন, “ফেসবুকে শামীম আশরাফ ধর্মীয় অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সমাজের ধর্মভীরু মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তাকে হেফাজতে নিয়েছি, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
ফেসবুকে নিজের একটি পোস্টের নিচে শামীম চৌধুরী নামে একজনের মন্তব্যের জবাবে শামীম আশরাফ লিখেছিলেন— “আপনে ভায়া বেহেশতের সর্বোচ্চ মাকামে গিয়া সানিলিওনকে (অশালীন শব্দ) গিয়া…”
ধর্মীয় প্রতীক ও পবিত্র ধারণা নিয়ে করা এই মন্তব্য সোমবার দুপুরে ভাইরাল হয়। মুহূর্তেই নেটিজেনদের একাংশ ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন এবং তার গ্রেফতার দাবি জানান। নগরের বড় মসজিদের সামনে বিকেলে এক মানববন্ধন ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, “ধর্ম অবমাননা বা পবিত্র বেহেশত নিয়ে ব্যঙ্গ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে কবিকে আটক করে। এর আগে বেহেশত নিয়ে কটূক্তিপূর্ণ গ্রাফিটি লেখার অভিযোগেও তার নাম উঠে এসেছিল। সেই লেখাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তদন্তে ডিবি নিশ্চিত হয় যে, গ্রাফিটির লেখকও তিনিই।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শামীম আশরাফ লেখাগুলো নিজের বলে স্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, তার লেখাগুলো “প্রতীকী প্রতিবাদ ও ব্যক্তিগত ভাবনার শিল্পরূপ”— যার মাধ্যমে কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল না।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জেলা গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, “বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে দেখা হচ্ছে; প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শামীম আশরাফ ময়মনসিংহের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখ। তিনি স্থানীয় সাহিত্য সংগঠন ‘শব্দচিত্র’–এর সংগঠক এবং ‘গ্রাফিটি’ নামে একটি মুদ্রণ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী।
তবে তার গ্রেফতার নিয়ে সংস্কৃতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, “একজন শিল্পীর ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য বিপজ্জনক উদাহরণ।” আবার অন্য পক্ষের মত, “ধর্ম ও পবিত্র বিশ্বাস নিয়ে ব্যঙ্গ কখনোই শিল্প হতে পারে না।”
ঘটনাটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে — মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অনুভূতির সীমারেখা কোথায় টানা হবে? ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গন আজ সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।