অপরিচ্ছন্নতা ও অনিয়মে ভরপুর হাইদগাঁও হ্যান্ডস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ছাত্র-ছাত্রীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্কুলের চারপাশের নোংরা-আবর্জনা, ব্যবহারের অনুপযোগী ও অস্বাস্থ্যকর টয়লেট থাকায় চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী স্কুল হাইদগাঁও হ্যান্ডস্ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গা দরজা, ব্যবহারের অনুপযোগী ও অস্বাস্থ্যকর টয়লেটের কারণে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমের সামনে ও টয়লেটের সামনে স্তুপ করে রাখা হয়েছে দীর্ঘ দিনের ময়লা আবর্জনা। তাছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় ও টবে জমে থাকা দীর্ঘদিনের পানি ও স্যাঁতসেতে জায়গা তৈরি করছে মশার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ। স্কুলের টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় শিক্ষার্থীদের যেমন বেগ পেতে হচ্ছে তেমনি দূর্গন্ধ ও মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্কে শঙ্কিত অবিভাবক মহল।
ময়লা আবর্জনার বিষয়ে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় ৪০০ এর অধিক শিক্ষার্থী এ স্কুলে অধ্যয়ন করলেও শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোন স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। স্কুলের টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে যাওয়ায় ও অস্বাস্থ্যকর হওয়ায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী। তাছাড়াও টয়লেটের সামনে ও ক্লাসরুমের সামনে বাচ্চাদের ডায়াপার সহ বিভিন্ন ময়লার স্তুপের দূর্গন্ধে যাওয়া যায় না। হাত ধৌত করার জন্য কোনরুপ সাবান বা হ্যান্ডস্যানিটাইজার ও নেই। বৃষ্টির মৌসুমে বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে যাওয়ায় মশক বাহিত রোগের ঝুঁকিতে থাকলেও স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনরুপ মাথাব্যাথা নেই। শিক্ষার্থীরা যদি রোগে আক্রান্ত হয় তবে এর দায়ভার কে নেবে?

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হাইদগাঁও হ্যান্ডস্ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শর্মি দাশ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের জন্য কোনরুপ বরাদ্ধ না থাকায় যেমন স্কুলের বিভিন্ন উন্নয়নকাজে হাত দেওয়া যাচ্ছে না তেমনি বিভিন্ন সংস্কার কাজ ও সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।উর্ধতন কর্মকর্তাদের এসব বিষয়ে বলা হলেও তারা আমাদের কথায় কর্ণপাত করেন না।
স্কুলের সামনে আবর্জনার স্তুপ নিয়ে স্কুলের দপ্তরী রিপন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করায় ও প্রধান শিক্ষিকার কোন নির্দেশনা না থাকায় ময়লার স্তুপ সরানো হয়নি।
স্কুল সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে পটিয়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিষু দে জানান, পটিয়া উপজেলা আয়তনে বড় হওয়ায় ও জনবল সংকট থাকায় সব স্কুলে হয়তো সময়মতো পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। অন্যান্য বিষয়ের জন্য বরাদ্ধ না থাকলেও প্রাক্-প্রাথমিকের জন্য ৬৫০০/- টাকা ও বিগত তিন মাস ধরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য ৫০০/- টাকা করে বরাদ্ধ দেওয়া হচ্ছে। স্কুলটিতে অপরিচ্ছন্ন থাকার বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
